হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল সৌদি আরব
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪৩:২৯,অপরাহ্ন ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’-এর বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াইয়ে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রিয়াদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। মূলত এর মাধ্যমে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাই ছিল তেল আবিবের উদ্দেশ্য।
তবে এতে নিজ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওই প্রস্তাবে সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর সৌদি আরবের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
হারেৎজ লিখেছে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়াকে রিয়াদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে তাদের প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের মদদপুষ্ট একটি গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগটিও কাজে লাগাতে চেয়েছিল তেল আবিব।
অন্যদিকে, সংঘাতের এই চরম মুহূর্তে সামরিক পথ পরিহার করে সৌদি আরবকে রাজনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদকে টেলিফোন করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানকে পাশ কাটিয়ে কেবল সামরিক পন্থায় জোর দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে।
এ অঞ্চলের সংকটগুলোর কোনো সামরিক সমাধান নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে এবং একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তিতে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন। পরে আহত এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়ায়।
হামলার পরপরই এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেতানিয়াহু লেখেন, “এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যেখানে ১২ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ।”
তিনি বলেন, “ইসরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”
এদিকে মঙ্গলবার উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশে সৌদি আরবের একটি ‘উইং লুং টু’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা।
তাদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ওই ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে।




