শেষ মুহূর্তে আবারও নাটকীয়তা, শনিবার শপথ হচ্ছে না থালাপতির
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪৮:৩০,অপরাহ্ন ০৮ মে ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতি যেন নাটকীয়তায় ভরপুর। রাজ্যটির রাজ্যপাল আর ভি আরলেকারের দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয় শনিবার (৯ মে) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না। এর কারণ হলো- ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন তিনি প্রমাণ করতে এখনও পারেননি।
সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাছি (ভিসিকে), আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্র কাজাগাম (এএমএমকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) এক বিধায়ককে পাশে টানতে জোর আলোচনা চালালেও শেষ পর্যন্ত বিজয় প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হন। বর্তমানে তার পক্ষে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে দুই কম।
সূত্র আরও জানিয়েছে, ভিসিকে এবং আইইউএমএল সমর্থনপত্রও তিনি দেখাতে পারেননি। পরে আইইউএমএল এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, তারা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। অন্যদিকে এএমএমকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা বিজয়কে সমর্থন করবে না। দলটি বরং অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)–কে সমর্থনের কথা জানিয়ে রাজ্যপালের কাছে চিঠি দিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান এবং বলেন, তার পক্ষে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে অভিষেকেই বড় সাফল্য পায়। ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে তারা ৬২ বছর ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের প্রভাব ভেঙে দেয়।
তবে সেই জয়ের উচ্ছ্বাস দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়, যখন রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দেন যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিশ্চয়তা ছাড়া তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না। বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিন বৈঠক হলেও রাজ্যপাল নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। বুধবার তিনি বিজয়কে জানান, ১১৮ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে মাত্র ১১৩ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার চালানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি তিনি নির্বাচিত বিধায়কদের সমর্থনপত্র জমা দিতে আহ্বান জানান।
বর্তমানে বিজয়ের নিজের দলের আসন সংখ্যা ১০৮। এর সঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পাঁচটি আসন নিয়ে জোটে যোগ দিয়েছে। তবে শর্ত ছিল, বিজয় ও তার দল যেন কোনো সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে জোট না করে, যা মূলত বিজেপিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ডিএমকে ও কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে যায়। গত সাত বছরে তিনটি নির্বাচনি জয় পাওয়া এই জোটের ভাঙন নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। উভয় দলই একে অপরকে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করছে।
এরপর বিজয়ের দল ডিএমকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে আলোচনায় বসে। এই তিন দলই আগে ডিএমকের মিত্র ছিল। বিজয় ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের দুই নবনির্বাচিত সদস্যের একজন এবং আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্র কাজাগামের একমাত্র নির্বাচিত সদস্যের কাছ থেকেও সমর্থন চাইছিলেন। বাম দল দুটি বাইরে থেকে বিজয়ের দলকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না। অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের সমর্থনের বিনিময়ে দুটি মন্ত্রিত্ব আশা করছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। সামাজিক ন্যায়বিচার আন্দোলনের আদর্শে বিশ্বাসী হলেও দুই দল বহুদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দলই বিজয়ের উত্থানকে ভয় পাচ্ছিল।
দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম বা ডিএমকের জন্য এটি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮৭ সালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যখন এম জি রামাচন্দ্রন দলটিকে একের পর এক নির্বাচনে হারিয়েছিলেন। অন্যদিকে আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম বা এআইএডিএমকের একাংশ মনে করিয়ে দেয়, গত এক দশকে দলটি টানা তিনটি নির্বাচনে এম কে স্টালিনের কাছে পরাজিত হয়েছে।
তবে এই সম্ভাব্য জোট শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। দুই পক্ষের শীর্ষ নেতারাই জানিয়েছেন, উভয় দলের আদর্শিক অংশের তীব্র বিরোধিতার কারণে এমন জোট টেকসই হতো না। একপর্যায়ে বিজয়ের দল ও এআইএডিএমকে মধ্যেও সম্ভাব্য সমঝোতার গুঞ্জন ওঠে। দলটির বর্তমানে ৪৭টি আসন রয়েছে।
বিজেপির অবস্থান
ভারতীয় জনতা পার্টি এই অচলাবস্থায় নিজেদের কোনো ভূমিকা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির রাজ্য মুখপাত্র নারায়ণ থিরুপাথি বলেন, ‘এটি একটি বিভক্ত রায়। বিজয়ের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তিনি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবেই তা গ্রহণ করবেন। এখানে কোনো বিভ্রান্তি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে গণতান্ত্রিকভাবেই নির্বাচন হয়। বিজয়ের দলের আসন বেশি। সবকিছু গণতান্ত্রিকভাবেই হবে। কাউকে চাপ দেয়ার প্রশ্নই আসে না।’




