মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের রিটে শুনানি শেষ, আদেশ বুধবার
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৪১:১২,অপরাহ্ন ০৫ মে ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি হয়েছে, তবে আদেশ হবে বুধবার।
মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
এদিন বাকি থাকা এক আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির-এনসিপির আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।
গেল ২১ এপ্রিল এনসিপির জন্য বরাদ্দ দুই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন মাহমুদা আলম মিতু ও মনিরা শারমিন। সেদিন নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি।
সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় ঝুঁকি জেনে জ্যোতি মনোনয়নপত্র দিলেও নির্বাচন কমিশন তা গ্রহণ করেনি।
২৩ এপ্রিল রিটার্নিং অফিসার মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ২৬ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন জমা দেন। তবে পরদিন দীর্ঘ শুনানির পর নির্বাচন কমিশন তার আপিল খারিজ করে দেয়।
নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মনিরা শারমিন গেল বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।
মনিরা শারমিনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি ছাড়েন।
এদিকে রিটার্নিং অফিসার জ্যোতির মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করায় আদালতে যান তিনি। পরে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশ দেয়।
এরপর জ্যোতির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার এবং রোববার এ সংক্রান্ত তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
হাই কোর্টে মনিরার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মোস্তাফিজুর রহমান খান শুনানিতে বলেন, ‘‘নুসরাত তাবাসসুমকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে ইতোমধ্যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এই মামলায় তারা এখন শুধু রুল চান যাতে ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘গাইডলাইন’ তৈরি হয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘যেকোনো বেসরকারি ব্যাংকে তিনি (মনিরা) চাকরি করলে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েই নির্বাচন করতে পারতেন। অথচ সরকারি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হাওয়ায় তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন।’’
মনিরা একজন বৈষম্যবিরোধী নেত্রী হয়েও বৈষম্যের শিকার হন বলে মন্তব্য করেন এই আইনজীবী।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল উঠে আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে রুলের বিরোধিতা করেন।
এই পর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান খান আগামীকাল আদেশের জন্য দিন রাখতে বললে আদালত বুধবার দিন রাখে।
এর আগে, সোমবার মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ। বেঞ্চের এক বিচারপতি ও মনিরা শারমিনের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তিনি রিটটি শুনতে রাজিক আল জলিলের এই বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
এ সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বে ভিত্তিতে বিএনপি জোট ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট ১ আসন পায়। জামায়াত জোটের আসনের মধ্যে দুইটি পায় এনসিপি।
এক আসনের জটিলতা থাকলেও বাকি ৪৯ আসনে নির্বাচিতরা রোববার শপথ নেন।




