ইতিহাসে বৃহত্তম সাইবার হামলা: বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলার চুরি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১২:২৫,অপরাহ্ন ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো কারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। হ্যাকাররা প্ল্যাটফর্মটির ডিজিটাল সম্পদ থেকে রেকর্ড প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে, যা এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে হওয়া ১৫০ কোটি ডলারের চুরির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই নজিরবিহীন সাইবার হামলার খবরে বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টো কারেন্সির বাজারে ব্যাপক ধস নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইন অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে শুরু হয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই এই চুরির মূল ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাইন্যান্সের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সূত্রপাত। ওই ডিভাইসের অ্যাক্সেস কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সিস্টেমের মূল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ালেটের নিয়ন্ত্রণ (প্রাইভেট কি) হাতিয়ে নেয় এবং নিজেদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে সক্ষম হয়।
ব্লকচেইন বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছে যে, এই হামলার নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রসমর্থিত হ্যাকিং ইউনিট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ জড়িত। তাদের মতে, আগের অন্যান্য সাইবার হামলার সাথে এবারের হামলার পদ্ধতির হুবহু মিল রয়েছে। বাইন্যান্স উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও অপরাধীদের বিচারে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে।
ঐতিহাসিক এই হ্যাকিংয়ের পরপরই বাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে প্ল্যাটফর্ম থেকে সব ধরনের অর্থ উত্তোলন (উইথড্রয়াল) সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। তবে সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং ও ই হে ব্যবহারকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং তাঁদের মূল তহবিল সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
ইতোমধ্যে টেথার, সার্কেল ও ট্রাম্প-সমর্থিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর তড়িৎ পদক্ষেপে চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক (৩০০ কোটি ডলারের বেশি) দ্রুত জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে টেথার এককভাবে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার, সার্কেল ৮০ কোটি ডলার এবং রিপল প্রায় ২০ কোটি ডলারের তহবিল আটকে দিয়েছে। তবে টিআরএম ল্যাবস সতর্ক করেছে যে, বিপুল পরিমাণ সম্পদ এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তা উদ্ধারে অনেক দূর এগোতে হবে।
এই সাইবার হামলার তাত্ক্ষণিক প্রভাবে বৈশ্বিক ক্রিপ্টো বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে গিয়ে ৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে আসে। ইথারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে ২ হাজার ১৭৮ ডলারে এবং বাইন্যান্সের নিজস্ব টোকেন বিএনবি-র দাম ৫ শতাংশ কমে প্রায় ৭০৯ ডলারে পৌঁছায়। পাশাপাশি কয়েনবেস গ্লোবাল ও স্ট্র্যাটেজির মতো শীর্ষ ক্রিপ্টো কোম্পানির শেয়ারের দামেও দরপতন দেখা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় মারাত্মক আঘাত হানবে এবং কেন্দ্রীভূত এক্সচেঞ্জগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে জোরালো প্রশ্ন তুলবে। উল্লেখ্য, এই হ্যাকিংয়ের ফলে কেবল মূল বাইন্যান্স ডটকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সেবাদানকারী বিন্যান্স ইউএস অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।




