এআই গ্রহণে শীর্ষে এনভিডিয়া, পরে অ্যামাজন, মেটা: গবেষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ৫:৫৬:৪৩,অপরাহ্ন ০৫ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
আধুনিক বিশ্বে প্রতিটি প্রযুক্তি কোম্পানিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মেতে উঠেছে। এ প্রযুক্তি কীভাবে তাদের শিল্পকে বদলে দিচ্ছে বা কর্মী ও গ্রাহকদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে তা নিয়েই সবারই এখন ব্যস্ততা।
তবে বিভিন্ন কোম্পানি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাজে ঠিক কতটুকু এআই ব্যবহার করছে এবং এ দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা মানিয়ে নিতে পারছে, তার মধ্যে বড় ধরনের তাফাৎ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
‘এআই-ড্রিভেন এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট’ বা এআইডিই-এর নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি এবং তাদের প্রধানরা প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এআই গ্রহণে কতটা এগিয়ে রয়েছেন।
গবেষণার তথ্য অনুসারে, প্রত্যাশিতভাবেই প্রযুক্তিবাজারের শীর্ষ বিভিন্ন কোম্পানিগুলোই এ তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
জ্ঞান, সমর্থন, দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবায়ন এ চারটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলোকে প্রতিটি ক্যাটেগরিতে সর্বোচ্চ ১০০ নম্বর দিয়ে সার্বিক এক সূচক তৈরি করেছে এআইডিই।
প্রযুক্তি খাতে ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ ও ‘বাস্তবায়নের গড়’ ভিত্তি ধরে করা এ গবেষণায় সর্বোচ্চ স্কোর ১০০-তে ১০০ পেয়েছে মার্কিন চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া।
এআই মডেল ও সেবা তৈরির চিপ ও সিস্টেম বিক্রি করেই তারা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া মেটা ও অ্যামাজনও ১০০ স্কোর করেছে।
তবে ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ তালিকায় এ কোম্পানি দুটিকে যথাক্রমে কমিউনিকেশন সার্ভিসেস ও কনজিউমার ডিসক্রেশনারি বা ভোক্তা পণ্য খাতের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের বাইরে একমাত্র ‘এসএলবি’ নামের জ্বালানি উৎপাদক কোম্পানিটি ১০০ স্কোর পেয়েছে, যা আগে শ্ল্যামবার্জার নামে পরিচিত ছিল। এর ঠিক পরের অবস্থানে রয়েছে খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি ওয়ালমার্ট।
এসব কোম্পানির পরেই রয়েছে ‘এইএস’ ও ‘নেক্সটেরা এনার্জি’, যার দুটিই ইউটিলিটি বা সেবাখাতভিত্তিক কোম্পারি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
পাবলিকলি সহজলভ্য বিভিন্ন তথ্য যেমন, কোম্পানির আয়ের খতিয়ান সংক্রান্ত আলোচনা, চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও পেটেন্ট আবেদনপত্র বিশ্লেষণ করে এ নতুন ওপেন-সোর্স সূচকটি তৈরি হয়েছে।
এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা এআই সম্পর্কে কতটা জানেন ও বলছেন এবং তাদের কোম্পানি দৈনন্দিন কার্যক্রমে এ প্রযুক্তিকে কতটা অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়ন করছে তা পরিমাপ করা হয়।
এআইডিই-এর প্রধান নির্বাহী ও ‘ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা এমআইটি’র জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পল চিক বলেছেন, এ তথ্য এআইয়ের মাধ্যমে কোনো আর্থিক লাভ হচ্ছে কি না তা পরিমাপ করে না, বরং জরিপের ওপর নির্ভর না করে শীর্ষ নেতাদের তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিজেদের কৌশলের এক তুলনামূলক নিরপেক্ষ চিত্র দিয়েছে।
“কোনো পরিচালনা পর্ষদ যখন তাদের প্রধান নির্বাহীকে প্রশ্ন করে, ‘আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় আমরা কেমন করছি?’ আমি চাই না সেই উত্তরটা তখন কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হোক। আমি চাই তাদের কাছে এমন কিছু তথ্য থাকুক, যা দিয়ে তারা নিজেদের বক্তব্যকে প্রমাণ করতে পারেন।”
পল চিক বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিজেদের এআই বিষয়ক জ্ঞান বা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ‘উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ’ রয়েছে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভূমিকা ঠিক কেমন– পর্ষদগুলোর তা আরও ভালোভাবে বোঝা দরকার। কারণ এসব বিনিয়োগই শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার জন্য মানসম্মত সেবা তৈরি করে বলেও উল্লেখ করেছেন পল।
কোম্পানির ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ ও ‘বাস্তবায়নের হারের’ ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া শীর্ষ কোম্পানিগুলো হচ্ছে–
১. এনভিডিয়া (১০০)
২. শ্লামবার্জার (১০০)
৩. অ্যামাজন (১০০)
৪. মেটা (১০০)
৫. ওয়ালমার্ট (৯৫.৮৪)
৬. এএস (৯৫.৪৬)
৭. নেক্সটএরা এনার্জি (৯৫.৪৪)
৮. ইকোলাব (৯৫)
৯. ডিজিটাল রিয়েলটি (৯৪.৭৪)
১০. শেভরন (৯৪.৭৪)
১১. অ্যালফাবেট (৯৪.৭২)
১২. ইকুইনিক্স (৯৪.৫৯)
১৩. আইকিউভিয়া (৯৩.৭৫)
১৪. ডাউ (৯৩.৩৪)
১৫. হ্যালিবার্টন (৯২.৮৩)
১৬. ব্রডরিজ ফাইনান্সিয়াল সলিউশনস (৯১.৬৬)
১৭. মাইক্রোসফট (৯১.৩৭)




