প্লেব্যাকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যান্সির শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৫৮:২৩,অপরাহ্ন ০৬ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি দীর্ঘদিন পর আবারও নতুন একটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। তবে নতুন গান নিয়ে যতটা উচ্ছ্বাস, তার চেয়ে বেশি হতাশা ফুটে উঠেছে দেশের চলচ্চিত্র ও সংগীতাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তার কথায়। ন্যান্সির মতে, প্লেব্যাকের সুযোগ কমে যাওয়া, অডিও ইন্ডাস্ট্রির স্থবিরতা এবং কনসার্টের সংকট—সব মিলিয়ে দেশের সংগীতাঙ্গন কঠিন সময় পার করছে।
সম্প্রতি কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত ‘শিকার’ সিনেমার জন্য ইমরানের সঙ্গে একটি রোমান্টিক দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ন্যান্সি। তার ভাষ্য, গানটির কথা ও সুর খুবই সুন্দর। তবে নিয়মিত প্লেব্যাকে ফিরেছেন—এমন ধারণা উড়িয়ে দিয়েছেন এই শিল্পী। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই মনে করছেন আমার কাজ বেড়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। গত দুই বছরে আমি মাত্র দুটি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছি। এর মধ্যে ‘দম’ সিনেমার জন্য গাওয়া গানটি শেষ পর্যন্ত সিনেমায় ব্যবহারই হয়নি; শুধু ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েছে। আর এবার গেয়েছি ‘শিকার’-এর জন্য।”
ন্যান্সির মতে, প্লেব্যাক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ দেশে বাণিজ্যিক সিনেমার সংখ্যা কমে যাওয়া। তার ভাষায়, এখন মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা বলতে প্রায় শুধু শাকিব খানের সিনেমাকেই বোঝানো হয়। অন্যদিকে নতুন ধারার অনেক সিনেমাতে গান থাকে না। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি, কণা আর কোনালের পর আরেকজন নিয়মিত নারী প্লেব্যাক শিল্পী দেখান। ইমরানের পর আরেকজন নিয়মিত পুরুষ প্লেব্যাক গায়কও দেখাতে পারবেন না। আমরাই কি তাহলে প্লেব্যাকের শেষ প্রজন্ম হতে চলেছি?’
শুধু সিনেমার গান নয়, অডিও গানেও মন্দা চলছে বলে মনে করেন ন্যান্সি। সম্প্রতি তার নতুন গান ‘এ শহর জানে’ প্রকাশ পেলেও তিনি জানান, এখন আর আগের মতো গান তৈরি হচ্ছে না। বড় বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও নতুন গানে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। ফলে অনেক শিল্পীরই নতুন গান প্রকাশ পাচ্ছে না।
কনসার্ট পরিস্থিতি নিয়েও হতাশ ন্যান্সি। তার দাবি, গত মাসে তিনি মাত্র একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন। খোলা মাঠের কনসার্ট প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আয়োজকরা নিরাপত্তা ও ‘মব’ আতঙ্কে অনুষ্ঠান করতে চাইছেন না। তাই সরকারকে দ্রুত মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার আশঙ্কা, তা না হলে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ ছাড়া সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রের মান নিয়ন্ত্রণের দাবিও তুলেছিলেন ন্যান্সি। তার মতে, শুধু অনুদান দিলেই হবে না, নির্মাণ শেষে সিনেমার মানও মূল্যায়ন করতে হবে।
, যাতে জনগণের অর্থ অপচয় না হয়। সরকার পরিবর্তনের পর শিল্প-সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা থাকলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখছেন না ন্যান্সি। তবে সরকারকে সময় দেওয়ার পক্ষেও তিনি। একই সঙ্গে তার মন্তব্য, শিল্প-সংস্কৃতিকে অবহেলা করে একটি দেশ কখনোই সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।




