আইআরজিসির নৌপ্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৪২:৫৩,অপরাহ্ন ২৬ মার্চ ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
আল-জাজিরা, বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
হত্যার খবর নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিকে হত্যা করেছে।
ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘আলিরেজা তাংসিরি সরাসরি হরমুজ প্রণালী বন্ধের জন্য দায়ী ছিলেন এবং তাকে “বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে”।’
একটি ভিডিও বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত রাতে একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রাণঘাতী অভিযানের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডটি চালানো হয় এবং এতে নৌ কমান্ডের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।’
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী গত মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে বন্ধ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
আলিরেজা তাংসিরি ২০১৮ সালে আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে ২০১০ সাল থেকে তিনি একই বাহিনীর উপ-কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
চলতি বছরের ১০ মার্চ থেকে তার নামে পরিচালিত একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে। ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম ওই অ্যাকাউন্টের পোস্ট উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে তাংসিরি একাধিকবার হরমুজ প্রণালী নিয়ে মন্তব্য করেছেন। একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সঙ্গে জড়িত কোনো জাহাজের এই প্রণালী দিয়ে চলাচলের অধিকার নেই।’
তাংসিরি তার কড়া বক্তব্যের জন্য পরিচিত। অতীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিকবার কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়া হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হবে।
একই বছর হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ তাংসিরিসহ আইআরজিসির বেশ কয়েকজন কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। তার ভাষায়, তারা যদি স্বীকার করে যে আলোচনা চলছে, তাহলে “নিজেদের জনগণের হাতেই নিহত হতে পারেন”।




