ইউরেনিয়াম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১৬:৩৭,অপরাহ্ন ১৫ মে ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
তেহরানের হাতে থাকা ইউরেনিয়ামের পরিণতি কী হবে, সেই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।
উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট-ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আছেন আরাকচি।
ধারণা করা হয়, বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনা বন্ধ থাকার তথ্য দিয়ে আরাকচি বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে আলোচনায় নেই। তবে আলোচনার পরবর্তী ধাপে আমরা এ বিষয়ে ফিরে আসব।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইরান শান্তি আলোচনায় আবার তখনই বসবে, যখন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সিরিয়াস’ মনে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন।
এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান।
জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা।
এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।
যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই দেশ। সেই দুই সপ্তাহ শেষ হওয়ার ঘণ্টা কয়েক আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
কিন্তু যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও এখনও দুপক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি।




