প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন: বোরকা পরে আগুন দেয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১০:৪২,অপরাহ্ন ০২ মে ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, স্টোর রুমে রাখা ল্যাপটপসহ মালামালের ক্ষতি করতে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।
আসমাউল ইসলাম নামে একজন পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী বোরকা পরে সেখানে আগুন দেয়। ওই আগুন দিতে তার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তির তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারসহ এসব তথ্য দেন।
গ্রেপ্তার আসমাউল মাস্টাররোলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অধিদপ্তরে কাজ করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন- স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস ও মাস্টাররোলে স্টোর কিপার হিসেবে কর্মরত হুয়ামুন কবীর খান।
শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। সেখানে ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল, যেগুলো মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ বলছে, “আগুনে ১৪০টি ল্যাপটপ পুরোপুরি পুড়ে যায়। ২৯টির বেশির ভাগ অংশ এবং ৩৩টি ল্যাপটপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত ছিল।”
হিসাব অনুযায়ী বাকি ৮৩টি ল্যাপটপের ‘হদিস মেলেনি’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে উপকমিশনার মোস্তাক বলেন, ‘`আগুন দেওয়া’ আসমাউলের সঙ্গে সেখানে কর্মরত আরো দুইজনসহ অন্তত তিনজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।”
“স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও মালামালের ক্ষতি করতে আগুন দেওয়া হয়েছিল। আগুনে প্রায় ২-৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
ঘটনার পরপরই কাজ শুরুর ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ।
মোস্তাক সরকার বলেন, “চিহ্নিত করার পর আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখি, আসলে সে প্রকৃত জড়িত কি না। নিশ্চিত হওয়ার পরে তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।”
এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসমাউল তার সঙ্গে জড়িতদের আরো তিনজনের বিষয়ে তথ্য দেয়- যাদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তারের কথা বলেন তিনি।
“যে তথ্য পেয়েছি, হৃদয় নামে আরেকজন শনাক্ত হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান আছে।”
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। মূল যে মোটিভ এবং পরিকল্পনায় তাদের বাইরে আর কেউ আছে কি না সেগুলো বের করতে কাজ করছি। তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করব, আশা করি মূল মোটিভ উদ্ধার করতে সক্ষম হব।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা কিছু জিনিস বলেছে, এটা আরও যাচাই করতে হবে। অনেকগুলো বিষয় সামনে আছে। এটা একটা সরকারি ভবন, মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য ল্যাপটপগুলো রাখা ছিল, এই সময়ে কেন আগুন দেওয়া হল।
“যে আগুন দিয়েছে সে ওখানেই চাকরি করে। অন্যান্য যারা আছে, তাদের উদ্দেশ্য কী? জানতে পেরেছি, যে আগুন দিয়েছে তাকে আর্থিক প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল এ কাজটা করে দেওয়ার জন্য। এরমধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সে বিভিন্ন জিনিস কিনেছে। এ তথ্যগুলো আছে, জিনিসগুলো উদ্ধারসহ অন্যান্য কাজগুলো করতে একটু সময় লাগবে।”
তার ভাষ্য, “যেহেতু তদন্ত চলমান, সবগুলো বিষয় খোলাসা করে বলা যাবে না। তাতে তদন্তকাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে।”
৮৩টি ল্যাপটপের হদিন না মিললেও সিসিটিভি ভিডিওতে সেখান থেকে কোনোকিছু সরানোর প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
কার সঙ্গে ৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপাতত জানতে পেরেছি এ বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই কথাবার্তা হয়েছে।”




