রাজশাহীতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪৪:১৪,অপরাহ্ন ১৬ মে ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
রাজশাহীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা যোগদান করেন। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
এনসিপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, বিএনপির কুয়েত শাখার সাধারণ সম্পাদক ও তানোর উপজেলার মুন্ডুমালার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, গোদাগাড়ী ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ, বাগমারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এনামুল হকের নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগ দেন।
যোগদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্যসচিব আতিকুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য দেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন।
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর মানুষের বড় ভূমিকা ছিল। রাজশাহীবাসী কখনও সন্ত্রাস ও দখলদার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়নি। ভবিষ্যতেও তারা একই অবস্থানে থাকবে। এনসিপির নেতাকর্মীরাও কোনো দলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না।”
তিনি বলেন, “আমরা দেখছি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করেন, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের রাজনৈতিক ভুল। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে সবার আগে তারেক রহমানই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”
এনসিপি নেতা বলেন, “আপনি যদি কোনো ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক ভিন্ন অবস্থান নেন, তাহলে আমাদের অবস্থানও ভিন্ন হবে। আমরা একসঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছি, কিন্তু সেখান থেকে সরে গেলে আমরা নিজেদের মত করে আলাদা পথ বেছে নিতে বাধ্য হব।”
সারজিস আলম বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দেয় নাই। বাংলদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানকে সামনে রেখে। তারেক রহমান পিতা-মাতার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা সুযোগ পেয়েছেন। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি এই সুযোগটা কাজে লাগাবেন; না লাগাবেন না।’’
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে যেভাবে মিডিয়া দখল করা হত, এখন আমরা যখন দেখি, আগের মত মিডিয়া দখল করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় লোকজন বসানো হয়, তখন আমরা আগের যে বাংলাদেশ ছিল তার লক্ষণ দেখতে পাই।”
তিনি বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হত। বাংলাদেশে এখনও সেই চাঁদাবাজি হচ্ছে। থানায় থানায় টাকা নেওয়া হচ্ছে। জমি দখল হচ্ছে। যে কারণে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনও সেই কাজই করছে। তাই আমরা বিএনপির রাজনীতি নিয়ে শঙ্কিত। এই রাজনীতি করে আগামীর বাংলাদেশে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।”
সারজিস বলেন, “বিএনপি বলে, আমরা নাকি বিরোধিতা করার জন্য কথা বলি। কিন্তু আমরা বলি, জনগণের কথাগুলো তাদের কান পর্যন্ত যাওয়া দরকার। জনগণ আর দলবাজি-চাঁদাবাজি দেখতে চায় না। যারা ক্ষমতায় এসে এসব করতে থাকে তাদের জনগণ চায় না।’’
এ সময় নেতারা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীকে পরিচয় করিয়ে দেন।




