অস্ট্রেলিয়ার নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হচ্ছে ২৫ অক্টোবর
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১৫:৪৯,অপরাহ্ন ০৮ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
অস্ট্রেলিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) বিমানবন্দর আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। উদ্বোধনের আগে বিমানবন্দরটির নির্মাণ অগ্রগতি ও আধুনিক অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি প্রতিনিধিদল।
সম্প্রতি সিডনির ইনগেলবার্ন বিজনেস চেম্বারের সভাপতি ড্রু পার্সিভালের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরটির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, পরিচালনা ব্যবস্থা এবং ওয়েস্টার্ন সিডনির ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন।
পরিদর্শনকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যাজারিস ক্রিকে নির্মিত ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল (ন্যান্সি-বার্ড ওয়ালটন) বিমানবন্দরটি আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। এর আগে ২৬ জুলাই থেকে কার্গো কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক পর নির্মিত এই বিমানবন্দরটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বৃহৎ গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি সিডনির কিংসফোর্ড স্মিথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং দ্রুত বর্ধনশীল ওয়েস্টার্ন সিডনির জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রথম ধাপে বছরে প্রায় এক কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করবে বিমানবন্দরটি। ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই বিমানবন্দর পশ্চিম সিডনিতে কর্মসংস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি হবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বৃহৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেখানে প্রচলিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের পরিবর্তে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আধুনিক যাত্রীসেবা এটিকে দেশের অন্যতম স্মার্ট এভিয়েশন হাবে পরিণত করবে। যাত্রী ও কার্গো পরিবহনকে অগ্রাধিকার দিতে বিমানবন্দরটিতে ব্যক্তিগত জেট ও সাধারণ বিমান চলাচলের অনুমতি রাখা হয়নি।
পরিবহন সংযোগ আরও সহজ করতে প্রায় ১২ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয়ে সিডনি মেট্রো-ওয়েস্টার্ন সিডনি এয়ারপোর্ট রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিমানবন্দরটিকে সেন্ট মেরিসের সঙ্গে যুক্ত করবে। রেলপথ চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত পেনরিথ, লিভারপুল ও ক্যাম্পবেলটাউনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিনামূল্যে বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদলে ছিলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সরকার, কায়সার আহমেদ ও মো. শফিকুল ইসলাম। সফরটির নেতৃত্ব দেন ইনগেলবার্ন বিজনেস চেম্বারের সভাপতি ড্রু পার্সিভাল।
সফর শেষে প্রতিনিধিরা বলেন, বিশ্বমানের এই বিমানবন্দর পশ্চিম সিডনিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও লজিস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও নতুন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।




