বিরোধীরা অরাজকতা করলে রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি বিএনপির
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৩৬:১৯,অপরাহ্ন ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
আওয়ামী শাসনামলের দমন-পীড়ন মোকাবিলা করে টিকে থাকা বিএনপি এখন নয়াপল্টন কার্যালয়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন আর রাষ্ট্র মেরামতের কাজে ব্যস্ত। বিশেষ দিবসকেন্দ্রিক কিছু আয়োজন ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে বর্তমানে আগের মতো রাজনৈতিক উত্তাপের চেয়ে গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের নীরবতাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরু থেকেই আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির প্রস্তাব হলো, সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের মাধ্যমে এই বিষয়টির সুরাহা করা হোক। তবে বিএনপির এই প্রস্তাবে বিরোধী জোটের সায় না থাকায় মতভেদ এখন রাজপথে গড়িয়েছে।
সরকারের স্বল্প সময়ের মাথায় বিরোধীদের এমন তৎপরতাকে উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে দেখছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে বাধা সৃষ্টি করে যদি কেউ অরাজকতা তৈরি করে, তবে জনগণের স্বার্থে বিএনপি রাজপথে অবস্থান নিতে দ্বিধা করবে না।
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত মনে করেন, সংসদীয় রাজনীতিতে যেকোনো মতানৈক্য সংসদের ভেতরেই বিতর্ক বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। রাজপথে এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই।
একই সুরে কথা বলেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ও সংবিধান সংশোধনের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে। সংসদের কাজ রাজপথে টেনে আনার বিরোধিতা করে তিনি সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমেই সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আপাতত বিএনপির প্রধান লক্ষ্য দ্বিমুখী—একদিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারে সরকারকে সহযোগিতা করা এবং অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা। তবে বিরোধীদের কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজর রাখছে দলটি, যাতে আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতি না হয়। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সংসদকে পাশ কাটিয়ে রাজপথের সংঘাত কেবল রাজনৈতিক সংকটকেই ঘনীভূত করবে।




