নরসিংদীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাতের অভিযোগ, শিক্ষক আটক
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:২৭:১৫,অপরাহ্ন ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
নরসিংদী সদরে ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভেলানগর জেলখানা মোড়ে এলাকার মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। বেত্রাঘাতের অভিযোগ পাওয়ার পর ওই মাদ্রাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল-মামুন ।
নরসিংদী সদরে ৭ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ভেলানগর জেলখানা মোড়ে এলাকার মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
বেত্রাঘাতের অভিযোগ পাওয়ার পর ওই মাদ্রাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল-মামুন ।
আহত শিশুর নাম মুজাহিদ। সে শিবপুর দক্ষিণ কাকারচর এলাকার দর্জি জুয়েল ও শান্তা বেগমের ছেলে।
জানা যায়, আহত শিশু মুজাহিদ গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করায় ওই শিক্ষক তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন পড়ে এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হয়। এমনকি ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।
মুজাহিদ বলে, আমি গোসল করি নাই দেখে হুজুর আমাকে মারছে। অজ্ঞান হওয়ার পর আবারও মারছে। আমি অনেকবার মাফ চেয়েছি, কিন্তু তবুও মারধর করেছে। পরে বাবার সামনে হাসিমুখে থাকতে বলেছে।
এদিকে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার শরীরজুড়ে বেত দিয়ে আঘাতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পান। শিশু মুজাহিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ি যাওয়ার পর তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। রাত ২টার তিকে তীব্র জ্বর বমি সহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। পরে পরিবারর সদস্যরা পুনরায় তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। বিষয়টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মিমাংসা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে জরিমানা ও অব্যাহতির সিদান্ত নেওয়া হয়। এরই মধ্যে শিশুটির অবস্থা সংকটাপর্ন হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার বিকেলে পুলিশ শিক্ষক নাজমুল ইসলামকে আটক করে।
শিশুটির নানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হুজুরদের দায়িত্ব বাবা-মায়ের মতো করে আদর দিয়ে পড়ানো। এভাবে নির্যাতন করলে আমরা ছোট বাচ্চাদের কিভাবে তাদের কাছে দেব? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলাম,তাকে গোসল করতে বলি। সে না শুনায় আমি রাগে তাকে প্রহার করি। এটা আমার ঠিক হয় নাই। এ ঘটনায় আমি ক্ষমা চেয়েছি।
মাদ্রাসাটির পরিচালক মুফতি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর পরই শিশুটির পরিবারকে আইনের সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলি। আইনে আওতায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, আমরা স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করি এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে অফিসিয়ালি অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, মুজাহিদ নামে ৭ বছরের এক শিশু হাসপাতালে এসেছে। তার পিঠ, হাত ও পায়ে বেতের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হতে পারে। আশা করা যায়, ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




