সচিবের সই ছাড়া ফাইল ছেড়েছেন আসিফ, অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:২৪:৩০,অপরাহ্ন ২৩ মে ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সচিবের সই ছাড়া প্রকল্পের ফাইল অনুমোদনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এই অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর এ অভিযোগকে তিনি মূল্যায়ন করেছেন ‘প্রশাসনিক নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতা’ হিসেবে।
এদিন ব্রিফিংয়ে মীর শাহে আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি প্রকল্পে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংশ্লিষ্ট সচিবের সই ছাড়াই ফাইল পাস করেছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলগুলোতে স্থানীয় সরকার বিভাগে ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। এসব দুর্নীতি রুখতে এবং এর প্রকৃত চিত্র বের করতে বর্তমান প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সার্বিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালককে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে ৬০ কর্মদিবসের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মীর শাহে আলম অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। বিশেষ করে পিরোজপুরে একটি মেগা প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে কোনো বাস্তব কাজ না করেই প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এ কারণে গত দুই বছর ধরে জেলার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্থবির হয়ে আছে। দ্রুত পিরোজপুর পরিদর্শন করে বন্ধ প্রকল্পগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ, যার মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ও ছিল।
গত সেপ্টেম্বরে আসিফের বিরুদ্ধে ‘ফাইল বাসায় নিয়ে ফেলে রাখার’ অভিযোগ তুলেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের তিনটা প্রজেক্ট এখনো এলজিআরডি মিনিস্ট্রিতে (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়) আছে। অ্যাডভাইজার সাহেব এটা যখন দেখেন যে এটা একটা প্রজেক্ট, উনি ফাইলটা আর মিনিস্ট্রিতে রাখেন না, ঘরে নিয়ে যান।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।
মীর শাহে আলমের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, যারা এই অভিযোগ তুলছেন, তাদের সরকারের কার্যপ্রণালী বিধি বা ‘রুলস অব বিজনেস’ সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই। কোনো ফাইল যখন উপদেষ্টার টেবিলে আসে, তা বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোট বা সইসহই আসে।
আসিফ মাহমুদ ব্যাখ্যা করেন, সচিব যদি কোনো কারণে ছুটিতে থাকেন বা ফাইলে সই করতে না পারেন, তবে মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সিনিয়র সচিবের অনুমোদন নিয়ে ফাইল উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়। উপদেষ্টা শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। সচিবের সই ছাড়া ফাইল পাস করা হয়েছে— এমন দাবি ‘প্রশাসনিক অজ্ঞতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব পালনকালে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করেছি। যেকোনো তদন্তকে আমরা স্বাগত জানাই। বিগত বছরগুলোর দুর্নীতির তদন্ত অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে তা যেন কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করার জন্য না হয়।




