কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে হাঁটুপানিতে বসে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১৬:৩০,অপরাহ্ন ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
এবারও বৃষ্টিতে ডুবে গেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ধর্মপুর ডিগ্রি শাখা। এমন পরিস্থিতিতে হাঁটুপানিতে বসে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে হয়েছে অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের।
দুই দিনের বৃষ্টিতে কলেজটির কলাভবন, বিজ্ঞান ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা ও মিলেনিয়াম ভবনে পানি প্রবেশ করে। বৃষ্টি থামার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও কলা ভবন ও ব্যবসা শিক্ষা ভবনের নিচ তলা থেকে পানি সরেনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই দুই ভবনের নিচ তলায় আসন পড়া শিক্ষার্থীদের হাঁটুপানিতে বেঞ্চে বসে পা তুলে অনার্স ফাইনালের প্রথম পরীক্ষা দিতে হয়।
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এ সমস্যা দীর্ঘ এক যুগের। বিভিন্ন সময় জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক সংস্থার এগিয়ে আসার কথা থাকলেও ভোগান্তি কখনোই শেষ হয়নি। বরং দিনের পর দিন ভোগান্তি বাড়ছে। জলাবদ্ধ হয়ে প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে ভবনগুলো।
কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নয়ন প্রকল্পের দুটি কাজের টেন্ডার হয়েছে; তবে সেই কাজ কেন শুরু হচ্ছে না তা জানেন না কেউ।
বরুড়া উপজেলা থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসা তাহমিনা আক্তার বলেন, ভিক্টোরিয়া কলেজের কলা ভবনের নিচতলায় যেতে টুলের সেতু পার হতে হয়। সারা পথ শুকনো কিন্তু পরীক্ষার হলে পানিতে পা চুবিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। মশাও কামড়িয়েছে অনেক।”
আরেক পরীক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ বলেন, “দেশের স্বনামধন্য একটি কলেজের এ অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। দুই দিন ফেইসবুকে ছবি দেখেছি, ভেবেছিলাম আজকে হলে পানি থাকবে না। কিন্তু এসে দেখি রুমের মধ্যে পানি। এভাবে কতক্ষণ বসে পরীক্ষা দেওয়া যায়? অস্বস্তি লাগে।”
এদিন দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ক্যাম্পাস পানিতে তলিয়ে আছে। ব্যবসায় শিক্ষা ভবনের নিচতলার মেঝে পুরোপুরি ডুবে আছে। কলা ভবন, মিলেনিয়াম ভবনসহ আশপাশের আরও কয়েকটি ভবনেও পানি ঢুকেছে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নিচতলায় হাঁটুসমান পানি।
সেখানে কয়েকজনকে জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন। বিভিন্ন কলেজ থেকে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের পানিতে ডুবে থাকা কক্ষে বসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, “যারাই ক্ষমতায় আসে শুধুমাত্র মনে হয় ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবেই কাজে লাগাতে চায়। এখান থেকে যে মেধাবীরা তৈরি হচ্ছে, তাদের কী কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই?
“পড়াশোনার পরিবেশের দরকার নেই? না হয় কেন ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজ বছরের পর বছর ধুঁকছে? সেদিকে যেন কারো খেয়াল নেই? সংবাদ প্রচার হয় প্রতিবাদ হয় তবু কারো টনক নড়ে না।”
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁইয়া বলেন, বাইরের পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই কয়েকটি ভবনের নিচতলা তলিয়ে যায়।
সমস্য সমাধানে চেষ্টা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “সবশেষ কলেজের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষা সড়ক নির্মাণ এবং জলাবদ্ধতা নিরাসনে ড্রেনেজ প্রকল্পের দুটি কাজের টেন্ডার হয়েছে বলে জেনেছি। কিন্তু কাজ কেন হচ্ছে না সেটি বুঝতে পারছি না।”
পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে অধ্যক্ষ আবুল বাশার বলে, “আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আসন পুনর্বিন্যাস করে দিয়েছি। আশা করি আগামী পরীক্ষার আগে জলাবদ্ধতা থাকবে না।”




